বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। দীর্ঘ বছর পরেও প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন।

জাতিসংঘ, আসিয়ান ও বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। সামরিক জান্তা সরকারের সাথে আলোচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট দেশের ওপর অসহনীয় বোঝা তৈরি করেছে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী পরিবেশগত ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। দ্রুত প্রত্যাবাসন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নেই।

রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে নতুন আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই দ্বীপে ইতিমধ্যে বেশ কিছু রোহিঙ্গা পরিবারকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো স্বেচ্ছামূলক ভিত্তিতে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মিয়ানমারের ওপর আরও কার্যকর চাপ প্রয়োগ করা। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব স্বীকৃতি, নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়া তারা স্বদেশে ফিরতে রাজি হবেন না।

এই সংকটের সমাধান না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে। মাদক পাচার, মানব পাচার ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বৃদ্ধি পাবে। তাই দ্রুত ও মর্যাদাসম্পন্ন প্রত্যাবাসনই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।