বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। এই বিশাল তরুণ শক্তিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে না পারলে দেশের গণতন্ত্র পূর্ণতা পাবে না। এই উপলব্ধি থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তরুণ নেতৃত্ব তৈরিতে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে।

তরুণ রাজনৈতিক কর্মীরা বলছেন, প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তারা নিজেদের খুঁজে পাচ্ছেন না। দলীয় রাজনীতিতে মেধার চেয়ে আনুগত্যকে বেশি মূল্য দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে মেধাবী তরুণরা রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তরুণ নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি অনেকাংশে সহিংসতা ও দলীয় আধিপত্যের কারণে কলুষিত হয়ে পড়েছে। সুষ্ঠু ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ তৈরি না করলে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হবে না।

তরুণ উদ্যোক্তা ও পেশাদারদের একটি অংশ এখন সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী। তারা নতুন ধারার রাজনীতি চান, যেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তরুণরা যদি ভোটকেন্দ্রে যায় এবং নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নেয়, তাহলে রাজনৈতিক চিত্র বদলে যাবে।

সরকার তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ ও বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো একটি দক্ষ, সৎ ও প্রযুক্তি-বান্ধব নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ তৈরি করা।