বাংলাদেশে দুর্নীতি একটি গভীরমূল সামাজিক সমস্যা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও উদ্বেগজনক। দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) কিছু উচ্চ প্রোফাইল মামলায় ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু অনেকে মনে করছেন, কমিশনের স্বাধীনতা পূর্ণভাবে নিশ্চিত নয়। দুদককে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা জরুরি।

ই-গভর্ন্যান্স দুর্নীতি কমানোর একটি কার্যকর হাতিয়ার। সরকারি সেবা অনলাইনে পাওয়া গেলে মধ্যস্বত্বভোগী কমে যায় এবং সরাসরি অর্থলেনদেনের সুযোগ কমে। ডিজিটাল সেবার প্রসার দুর্নীতি কমাতে সহায়ক হচ্ছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে নাগরিক সমাজ ও মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতা ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয়তা দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর।

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিধান থাকা দরকার। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব, কিন্তু এর জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সংগঠিত প্রতিবাদ।