পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ব্যাপক উন্নত হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজারেরও বেশি যানবাহন এই সেতু দিয়ে চলাচল করছে, যা সম্প্রতি নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। ঈদ ও পূজার মতো বড় উৎসবে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়।
পদ্মা সেতু শুধু যোগাযোগ সহজ করেনি, বরং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করে তুলেছে। সেতু চালুর পর থেকে এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে, নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে এবং মানুষের আয় বাড়ছে।
কৃষিপণ্য দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছানোর সুবাদে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। আগে ফেরিতে পারাপার করতে যে সময় লাগত, এখন সেতুতে মাত্র কয়েক মিনিটে পার হওয়া যায়। এতে পণ্যের তাজা ভাব বজায় থাকছে এবং নষ্ট হওয়ার পরিমাণ কমেছে।
পর্যটন খাতেও পদ্মা সেতুর প্রভাব স্পষ্ট। সুন্দরবন, কুয়াকাটা ও অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় হোটেল ও পর্যটন ব্যবসাও প্রসার পাচ্ছে।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ সম্পন্ন হওয়ার পর দেশের অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ঢাকা থেকে খুলনা ও বেনাপোলের দূরত্ব অনেক কমে আসবে, যা রপ্তানি বাণিজ্যকে সহজ করবে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টোল আয় থেকে নির্মাণ ব্যয় উদ্ধার করা সম্ভব হবে পূর্বানুমানের চেয়ে আগেই। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হওয়ায় এটি জাতীয় গৌরবের প্রতীক হয়ে উঠেছে।